আমাদের বংশের ইতিহাস বইয়ের কয়েকটি ছেঁড়া পাতা --অনিতা(টুসি) দত্তের স্মৃতি চারণা ।

ঘোষ চৌধুরী বংশের গোবিন্দ ঘোষের কাল থেকে আমার এই স্মৃতিকথার শুরু। স্মৃতি কাহিনীর সূত্র অনেকের সঙ্গে আলাপচারিতা ও আমার চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা। সূত্রের মূলধারাটি অবশ্যই দার্জিলিং এর জাঠা বাবু ডক্টর জ্যোৎস্না ঘোষের থেকে সংগৃহীত। গোবিন্দ ঘোষ আমার বাবার ঠাকুরদা ছিলেন। তিনি প্রথম জীবনে ফরিদপুর জেলার বালিগ্রামে বসবাস করতেন তারপর ভাগ্যান্বেশনে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে প্রথমে দিনাজপুরে তারপরে রায়গঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ওকালতিতে যথেষ্ট যশ ও অর্থ লাভ করে সুবৃহৎবাটি ও প্রচুর জমি জায়গার মালিক হন।

দীর্ঘ ১২ বছর পর তিনি রায়গঞ্জে থেকে বালিগ্রামে আসেন মা ও স্ত্রীকে নিয়ে বালি গ্রামের পাট চুকিয়ে রায়গঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বালি গ্রামের সঙ্গে গোবিন্দ ঘোষের একটি করুন অভিজ্ঞতার কথা জ্যাঠা বাবু ডক্টর জেকে ঘোষের কাছ থেকে জানতে পারি। বালিগ্রামের বাড়িটি মেঘনা নদীর পাড়ে ছিল। ওইখানে তাঁর এক শিশু পুত্রকে চিরতরে কুমিরে নিয়ে যায়। আর চার পুত্র এবং পাঁচকন্যা কন্যাদের মধ্যে চার জন সম্পর্কে আমি অবহিত। জ্ঞানদা সুন্দরী (গুহবাড়ি), আন্দামান ফেরত বিপ্লবী সরোজ (কালকেতু) বোসের মা কাদম্বিনী, সরোজিনী (মিত্রালয়) ও বালবিধবা গিরিবালা (গোপাল ঠাকুমা)। চার পুত্র যথাক্রমে বরদাকান্ত, কুলদাকান্ত, যামিনীকান্ত ও নিশিকান্ত। শেষাক্ত জন আমার ঠাকুরদা। গোবিন্দচন্দ্র ঘোষ ভাগলপুরে পুত্রগণ ও জামাতাদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করেন। কন্যা ও নিকট আত্মীয়দের বসবাসের জন্য রায়গঞ্জে জমি ও বাড়ির ব্যবস্থা করেন।

বরদাকান্তের ছয় পুত্র ও এক কন্যা। আমার জানার পরিধি অবশ্য তারেশচন্দ্র, মুক্তেশ চন্দ্র, নরেশ চন্দ্র ও সুরেশ চন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ । তারেশ চন্দ্রের পুত্রগণ কাকু ,হান্দু, টিপু ও অরু। শুনেছি বড় পুত্র জ্যোতির্ময় অল্প বয়সে একটি দুর্ঘটনায় মারা যান। মুক্তেশচন্দ্র ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। মুক্তেশচন্দ্রর দুই সন্তান আশিস ও গীতা। নরেশ চন্দ্রের একমাত্র পুত্র নীলোৎপল। সুরেশ চন্দ্র ডাক্তার ছিলেন। উনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে অংশগ্রহণের শেষে জলপাইগুড়িতে এসে করলা নদীর পাড়ে একটি বড় বাড়ি করেন। জলপাইগুড়িতে ডাক্তার হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। তার বাকি জীবনটা তারেশ চন্দ্রের পরিবারের সঙ্গে জলপাইগুড়িতে কাটিয়ে দেন।

গোবিন্দ ঘোষের দ্বিতীয় পুত্র কুলদাকান্ত ঘোষ অত্যন্ত কৃতি মানুষ ছিলেন। একাধারে বিখ্যাত উকিল ও সফল সমাজসেবী। তার আমলে আমাদের বাড়ির প্রভূত উন্নতি পরিলক্ষিত হয় এবং রায়গঞ্জের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আমাদের ধনভান্ডার নামে একটি ব্যাংক, তৎকালীন রায়গঞ্জের প্রান্ত দেশে কামাথবাড়ি ও কর্ণজোড়ায় জমি ছিল। কামাথ বাড়ি থেকে ধান ও বিভিন্ন শষ্যাদি বাড়িতে আসতো। পরবর্তীকালে কর্ণ জোড়ার খালি জমি সরকারি অধিগ্রহণের আওতায় আসে। হাসপাতাল ও কলেজের জন্য বাড়ি থেকে জমি দান করা হয় ফলস্বরূপ কলেজ লাইব্রেরীর নাম গোবিন্দ ঘোষের স্ত্রীর (নিত্যমনি) নামে রাখা হয়। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে পরিবার থেকে একজন প্রতিনিধি ছিল (নির্মল কুমার)। রায়গঞ্জে ছেলেদের উচ্চ বিদ্যালয় ছিল না, কুলদাকান্ত ঘোষের উদ্যোগে উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ।স্কুল স্থাপনের জন্য বসতবাটি ১৫ হাজার টাকায় বন্ধক রেখে তিনি এগিয়ে আসেন। স্কুলটি ১৯১১ সালে স্থাপিত হয়। স্কুলে সরকারী অনুদান লাভ করার জন্য জর্জ দি ফিফথ এর রাজ্যাভিষেকের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্কুলের নাম রাখেন "করোনেশন হাই স্কুল"।

প্রথমদিকে স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষকের থাকা খাওয়ার স্থান ছিল আমাদের বাড়ি অর্থাৎ "উকিলপাড়া লিচুতলা বড়বাসা"। ১০০ কাঠা জমির উপর বাড়ি ও সন্নিহিত আমবাগানের কারণে রায়গঞ্জে বাড়ীটি "বড়বাসা" নামে পরিচিত হয়েছিল। এই ক্ষণজন্মা পুরুষটি অর্থাৎ কুলদাকান্ত তিনদিনের ব্ল্যাক ওয়াটার ফিভার রোগে হঠাৎই মারা যান। তার মৃত্যুর ১০-১১ বছর পরে করোনেশন স্কুলের উদ্যোগে রায়গঞ্জে কুলদাকান্ত মেমোরিয়াল শিল্ড ফুটবল টুর্নামেন্ট আরম্ভ হয় যা আজও চলছে।

আমাদের বাড়ির রীতি অনুযায়ী অন্নপ্রাশন হয় না। এই না হওয়ার পিছনে কুলদাকান্তের মৃত্যুর ঘটনা জড়িয়ে আছে। যামিনীকান্তের ছোট ছেলে নিখিল রঞ্জনের (ঝন্টু) অন্নপ্রাশনের কয়েকদিন আগে কুলদাকান্তের মৃত্যু হয়, অন্নপ্রাশনের চূড়াবৃদ্ধির জন্য আনা উপকারণ কুলদাকান্তের শ্রাদ্ধে ব্যবহার করা হয়। সেই থেকে বংশে অন্নপ্রাশন বন্ধ হয়ে যায় কেবলমাত্র ঠাকুরের প্রসাদ মুখে দেওয়া হয়। আরো দুটি অপরিণত বয়সের মৃত্যু আমাদের বাড়িতে নাড়া দিয়েছিল। বড়দাকান্তের সেজ ছেলে নরেশ চন্দ্র খুব অল্প বয়সে বিয়ের এক বছর পরে মারা যান। তখন সুবর্ণ জেঠিমার বয়স মাত্র ১৭ আর মেজদা নীলোৎপলের বয়স কয়েক মাস। আমার ঠাকুরদা নিশিকান্ত ঘোষ সন্ন্যাস (সেরিব্রাল স্ট্রোক ) রোগে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ বছর বয়সে মারা যান। তখন ঠাকুরমার (সুনীতি )বয়স ৩৪ আমার ছোট কাকা (প্রস্থুমাস চাইল্ড) পিতৃমুখ দর্শনে বঞ্চিত। বাবা মারা যাওয়ার কয়েক মাস পরে তার জন্ম হয়। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি করোনেশন স্কুলের শিক্ষক কানাই জ্যাঠা (গুহবাড়ির কানাই গুহ) আমার ঠাকুমাকে তার বড় ছেলে ও মেজো ছেলে অর্থাৎ মানিক ও অনিলের পড়াশোনার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছিলেন। সেই দায়িত্ব উনি নিজের উপর নিয়েছিলেন।

কুলদাকান্তের মৃত্যুর সময় নির্মল কুমার ও জোৎস্না কুমার দুজনেই যথাক্রমে বি এল এবং এমবিবিএস (আরজিকর) পড়ছেন। পড়াশোনা শেষ করতে নির্মল কুমারের এক বছর আর জোৎস্না কুমারের দুই বছর বাকি ছিল। যামীনিকান্ত ছাত্রাবস্থায় দুজনেরই বিয়ে দেন এবং বরপনের টাকায় তারা পড়াশোনা সমাপ্ত করেন। পাশ করে তারা সংসারের হাল ধরেন। কুলদা কান্তের ইন্সুরেন্স পলিসি থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে যামিনী কান্ত বাড়িটিকে বন্ধক মুক্ত করেন। বড় বাসার ভরকেন্দ্র রায়গঞ্জ ও দার্জিলিঙে বিভক্ত হয়। কুলদাকান্তের আরেক পুত্র অমল কুমার ও দুই কন্যা আশা লতা ও তরুলতা। অমল কুমার উকিল ছিলেন।

বাসুদেব তলা বাড়ির একটি পূণ্য স্থান। একদিন ডঃ যামিনী কান্ত ঘোষ রোগী দেখতে গরুর গাড়ি করে যাচ্ছিলেন হঠাৎ গাড়ির চাকা রাস্তায় আটকে যায় অনুসন্ধান করে দেখা যায় চাকাটি একটি মূর্তিতে আটকে গেছে। ডক্টর ঘোষ ওই মূর্তিটি (কষ্টি পাথরের নিখুঁত বাসুদেব) রায়গঞ্জের বাড়ির বেল গাছ তলায় স্থাপন করেন। ওই বাসুদেব তলায় নিত্য পূজা, ব্রতকথা পাঠ ,হরিরলুট সবই প্রচলিত ছিল। দুর্ভাগ্যক্রমে ষাটের দশকের শেষে বা ৭০ দশকের শুরুতে সুযোগ সন্ধানী মূর্তি চোরেরা ওই মহামূল্য মূর্তিটি হস্তগত করে। বাড়িতে কালীপূজাও চালু হয়েছিল পরে বড়দা (আশিস ওরফে ভেবু)কয়েক বছর কলকাতায় এই পুজোর আয়োজন করে।

তখন রায়গঞ্জে মেয়েদের কোন স্কুল ছিল না বাড়ির মেয়েদের পড়াশোনার জন্য দিনাজপুর শহরে থাকতে হতো। এখানেও যামিনী কান্ত ঘোষের বাড়ি ছিল। জোৎস্না কুমার খুব তাড়াতাড়ি দার্জিলিংয়ের বুকে একজন দক্ষ ডাক্তার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন। কোচবিহারের মহারানী সুনীতি দেবী ও তার বোন ময়ূরভঞ্জের মহারানী সুচারু দেবী র দানে শিবনাথ শাস্ত্রীর মেয়ে হেমলতা সরকার দার্জিলিংয়ে কেবলমাত্র মেয়েদের জন্য বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করলেন। দুই মহারানীরই মান রাখতে বিদ্যালয়টির নামকরণ মহারানী বালিকা বিদ্যালয়। জ্যাঠাবাবু নিজের ভাই বোন আর আত্মীয়-স্বজনদের মেয়েদেরকে নিয়ে এসে যোগ্যতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ক্লাসে ভর্তি করালেন আর সবার থাকার জায়গা হল তার নিজের বাসস্থান, তার বাড়িটা অলিখিতভাবে মেয়েদের হোস্টেলে পরিণত হল। এই দলে ছিল আমার ছোট পিসি হাসি গুহ ,শোভা দি ,বুলু দি ,লক্ষীদি, গীতা দি প্রভৃতি ।জ্যাঠাবাবুর মেয়ে ছায়া দিও মহারানী স্কুলের ছাত্রী ছিল। সবাই মহারানী থেকে ম্যাট্রিক পাস করল, লক্ষ্মীদি গভর্ণমেন্ট কলেজ থেকে আইএ পাস করল, এ প্রসঙ্গে বলে রাখি, আমিও মহারানী স্কুলের প্রাক্তনী।

শেখর দা মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হ ওয়ার আগে দাদাদের (রুণু দা রা) সঙ্গে গভর্ণমেন্ট কলেজের ছাত্র ছিলেন। জ্যাঠা বাবু স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারে খুব কড়া ছিলেন স্কুলে প্রত্যেককে যেতে হতো। দার্জিলিং শহরের ছাত্র-ছাত্রীরা অসুখের ভনিতা করে তার চোখ ফাঁকি দিতে পারতো না। একবার আমার ছোট পিসি সত্যি সত্যিই পায়ে খুবই ব্যথা পেয়েছিলেন তাই তার মনে আনন্দ যে এবার তো আর স্কুলে পাঠাতে পারবে না কারণ অনেকটা উপর-নিচ করতে হবে। পিসী জেঠিমার সঙ্গে গল্প করছিলেন এই সময় জ্যাঠাবাবু এসে হাজির তিনি জিজ্ঞেস করলেন ড্রেস করিস নি কেন, তখন পিসি বলল আমার তো পায়ে ব্যাথা তাই যেতে পারব না। উনি বললেন পায়ে ব্যথা তো কি আমি তোকে গাড়ি করে নিয়ে যাব আর গাড়ি করে নিয়ে আসবো। স্কুলে যেতে হবে। ডাক্তার জ্যাঠা বাবু আমার বাবাকে(অনিল) ঢাকাতে এলসিই পড়ান,পরে বাবাকে দার্জিলিঙে নিয়ে আসেন।

বাবা প্রথমে গভর্ণমেন্ট স্কুলে অংকের শিক্ষক হিসেবে তারপরে মিউনিসিপালিটিতে ওভারসিয়ার হিসেবে যোগ দেন। বাবা পরে মিউনিসিপ্যালিটির চাকরি ছেড়ে সেন্ট পলস স্কুলে যোগ দেন এবং ওখান থেকেই অবসর নেন।তিনি(ডঃ ঘোষ) আমার জেঠু (মানিক)কে রিপন কলেজে পড়ান এবং জেঠুকে প্রথমে শিলং জিমখানা পরে দার্জিলিং জিমখানায় চাকরির ব্যবস্থা করেন। উনি ঝন্টু কাকাকেও যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। উনি সমাজসেবাতে অগ্রণী ছিলেন, বিনা ফিতে অনেক বাঙালি ও বাঙালি টুরিস্টদের দেখতেন, অনেকগুলি চা বাগানের ডাক্তার ছিলেন। এছাড়া চেনা পরিচিত আত্মীয়-স্বজনদের প্রয়োজনে আর্থিক সাহায্য করতেন। তিনি দীর্ঘকাল দার্জিলিং মিউনিসিপালিটির কাউন্সিলর ছিলেন।

এবার আমাদের ছোটবেলার কিছু দুষ্টুমির গল্প বলছি।
একবার একটা ছাগল বাড়ির মধ্যে এসে পড়ায় অমিতের নেতৃত্বে আমরা সেটাকে ধরলাম অমিত শিং ধরে রাখল সেই ছাগলের দুধ দুইয়ে বিড়ালকে খাওয়ানো হলো। শীতকালের দুপুরে বড় জেঠা বাবু (তারেশ ঘোষ) আমাদের সবাইকে অংক করাতো। আর আমরাও সুযোগ বুঝে উনার বাঁধা পানের দোকান থেকে ওনার নাম করে পান খেয়ে আসতাম।
একবার আলোদির ছেলে স্বপন দেবযানীদির ঘড়ি (শেখর দা বিদেশ থেকে এনে দিয়েছিল) বালির স্তূপে লুকিয়ে রেখেছিল।
আমাদের এই ভাই-বোনদের হৃদ্যতা আজকের দিনে অনুভব করা যাবে না। অমিতের একটা ঘটনা দিয়ে এই প্রসঙ্গ শেষ করছি। শীতকালের ছুটি কাটিয়ে আমরা দার্জিলিং অভিমুখে রওনা দিই, আমাদের বিদায় জানাতে সবাই বারবারির মাঠে এসেছে কিন্তু দেখা গেল অমিত নেই। আমাদের মনটা খারাপ হয়ে গেল কারণ যাওয়ার সময় অমিতের সঙ্গে দেখা হলো না। আমরা যখন স্টেট ট্রান্সপোর্টের বাসের ডিপোতে পৌঁছলাম দেখি নির্দিষ্ট বাসে অমিত আমাদের জন্য জায়গা নিয়ে বসে আছে যাতে আমরা বসে যেতে পারি। আমার ঠাকুমা ও মার কথা আলোচনা করে আমার স্মৃতিচারণায় ইতি টানছি ঠাকুমা ব্রাহ্ম পরিবারের মেয়ে ছিলেন। তাই প্রথাগত শিক্ষা থেকে দূরে ছিলেন না। তিনি তখনকার দিনে বৃত্তি পরীক্ষা পাস করেছিলেন। মার কাছে শুনেছি অংক সমাধানে তার সহজাত দক্ষতা ছিল। তিনি খুবই উদার মনের ছিলেন। একবার ঠাকুর আনার লোক ছিল না তিনি শকীচাঁদ (মুচি) কে দিয়ে সরস্বতী ঠাকুর বাইরে পাল মশায়ের ওখান থেকে ঘরে নিয়ে আসেন। আমার স্কুলের গণ্ডি পার হওয়ার পর মা শিলিগুড়ির মাতৃ সংঘের মাধ্যমে সেবামূলক কাজে ব্রতী হন। দুঃস্থ মেয়েদের নিয়ে উলের জামাকাপড় বানিয়ে আর গুঁড়ো মসলা তৈরি করে নানান প্রতিষ্ঠানে সাপ্লাই করতেন। আমাদের বাড়িটা আংশিক সময়ের জন্য মাতৃ সংঘের অফিস ঘরে পরিবর্তিত হয়েছিল।

রায়গঞ্জ বড়বাসার সঙ্গে দার্জিলিংয়ের যোগ বহুকালের, আমার ভাই দেবাশীষ(বুয়া) সেন্ট পলস থেকে অবসর নেওয়ার পর সেই যোগসূত্র ছিন্ন হয়েছে। আমার স্মৃতি হয়তো কোন কোন জায়গায় বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে বা কোন তথ্য সম্বন্ধে দ্বিমত থাকতে পারে।

img