আমার কথা -- অনিরুদ্ধ ঘোষ

আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠতম সময় শৈশব ও কৈশোর। ওই দুই কালের স্মৃতি মানুষ চাইলেও ভুলতে পারে না শেষ বয়সে সুখ স্মৃতির জাবর কাটতে অনাবিল আনন্দ পায়, দুঃখের কথা নিজের মনের মধ্যেই গুমড়ে মরে ,আর না বুঝে দুষ্কর্মের পাপবোধ নিজেকে কুরে কুরে খায়। আমার কৈশোর (১৯৬৭ থেকে ১৯৭৩) ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে একাদশ শ্রেণী রায়গঞ্জ "বড়বাসা"তে কেটেছে। সেই সময়কার মনের মনিকোঠায় যে কোলাজ ফ্রেমে বদ্ধ হয়ে আছে তাকে ফ্রেমের কাঁচ ভেঙে এই দলিলে প্রকাশ করার প্রচেষ্টা "আমার কথা"।

আমার কৈশোর কাল রায়গঞ্জে কাটানো নিতান্তই আকস্মিক। বাবা রেলে চাকরি করতেন। বর্তমান উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড় ও বেলঘরিয়া তে আমার শৈশব কেটেছে। হঠাৎই চিকিৎসা বিভ্রাটে রায়গঞ্জে বাবার মৃত্যু আমাকে ও আমার মাকে রায়গঞ্জবাসী করলো, তার আগে বছরে একবার আমরা সপরিবারে (আমি ,বাবা ও মা) রায়গঞ্জ ও কালিয়াগঞ্জ (মামা বাড়ি) ঘুরে যেতাম। বাবা খুবই সাদাসিধা রেল কর্মচারী ছিলেন। বাবার মুখে শুনেছি ম্যাট্রিক পাশ করার পর বাবাকে এই চাকরির ব্যবস্থা বড় জ্যাঠা বাবু (তারেশচন্দ্র) করে দিয়েছিলেন। তারেশচন্দ্র খুব ভালো ফুটবলার ছিলেন। রেলে টিসি পদে ছিলেন এবং রেল দলের নিয়মিত খেলোয়ার ছিলেন। সম্ভবত তিনি রায়গঞ্জের প্রথম ফুটবলার যিনি রেল দলে খেলেছিলেন। রায়গঞ্জে ফুটবলকে জনপ্রিয় করতে তার অবদান অনস্বীকার্য। ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের জোরে ফুটবল জাদুকর সামাদ সাহেবকে রায়গঞ্জ ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছিলেন। বড় জ্যাঠা বাবুর ফুটবল কীর্তি নতুন প্রজন্মের জানা উচিত তাই এই প্রসঙ্গ টেনে আনলাম।

বাবার কথায় ফিরে যাই। বাবার রায়গঞ্জের প্রতি টান ছিল অসীম। বছরের ছুটি তে সব সময়ই রায়গঞ্জে আসতেন। তার জীবনদর্শন সহজ সরল ছিল। শোভাদির(গুহ বাসার) বর জলপাইগুড়ি মিউনিসিপালটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিমল হোড়ের কথায় "তোমার বাবা রায়গঞ্জ বাড়ির প্রথম কমিউনিস্ট"। বর্তমানে বাবার নামে রায়গঞ্জ করোনেশন স্কুলে একটি বার্ষিক পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছি ।

বাবার মৃত্যুর পর কুট্টি কাকা (অঞ্চল/খোকা)আমাকে নিয়ে করোনেশন স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি করে দিল ফলে পাকাপাকিভাবে আমার "বড় বাসা" বাস শুরু হল। রেল কোয়ার্টার বা বেলঘরিয়ার ভাড়া বাসা থেকে বিশাল বাড়ি ,বাহির বাড়ির উন্মুক্ত প্রান্তর আর বাড়ির পিছনের লম্বা আম বাগান আমাকে অন্য এক জগতে এনে ফেলে দিল। সেই সময়ের বড় বাসার যে টুকরো টুকরো ছবি আমার মনে গেঁথে আছে তা নিম্নরূপ। বারবাড়ির শেষে লিচুতলা আর তার দুপাশে অনেক দোকান। শুনতাম ওগুলো বাড়ির দোকানঘর, ভাড়া দেওয়া আছে। কয়েকটি দোকানের সঙ্গে আমার যোগ ছিল।
১) লক্ষুরাম ঠাকুরের চুল কাটার সেলুন এখানে চুল কাটতাম।
২) কানুদার সাইকেল সারানোর দোকান -এখানে আমরা যেতাম ফুটবলের ব্লাডার লিক হয়ে গেলে সেই লিক সারাতে
৩) মনিদার মিষ্টির দোকান- এখনো মনিদার কমলা ভোগ আর গরম সিঙ্গারার নস্টালজিয়ায় ভুগি।
৪) অশ্বিনীর সাবিত্রী বেকারি-আমরা তিন ভাই অমিতদা, কুনালদা ও আমি রাধাবাবুর কাছে সন্ধ্যা বেলা ইংরেজি পড়তে যেতাম। তিনজনের প্রত্যেকে কুড়ি পয়সা পেতাম মোমবাতি কেনার জন্য, কারণ রাধাবাবুর বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। আমরা দুটি মোমবাতি কিনে বাকি কুড়ি পয়সা দিয়ে সাবিত্রী বেকারি থেকে ভাঙ্গা টোস্ট বিস্কুট কিনে খেতে খেতে যেতাম। আরো অনেক দোকান ছিল যেমন বসাক ভাই, টগর পালের টেলারিং, তনুশ্রী, কবিরাজ মশাই, কান্তি সরকার, সান্যাল দার ঘড়ির দোকান বেবি স্টোর্স ,বিদ্যুৎবাণী, মজুমদার বাবু, এনামেল আর অ্যালুমিনিয়ামের বাসনের দোকান, দুলালদার নতুন সাইকেলের দোকান, রেশন দোকান ইত্যাদি। লিচু তলার অপর পারে গুহ বাসার দুটি দোকানের প্রতি আমার আকর্ষণ ছিল প্রবল, বাণীমন্দির ও রায়গঞ্জ বুক স্টল ।ওদের দোকানের সামনে চেয়ারে বসে কত নতুন গল্পের বই যে শেষ করেছি তার ইয়ত্তা নেই। লিচুতলার আরও দুটি চরিত্র ছিল শকীচাঁদ ও বেনারসি। প্রথমজন মুচি ও শেষের জন নাপিত ছিলেন। দুজনেই আমাদের কাছের লোক ছিল।

দোকান পর্বের পর আসা যাক বার বাড়ির মাঠ পর্বে। ওইখানে রীতিমতো বার পোস্ট পুঁতে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, পিট্টু ইত্যাদি খেলা হত। আমার অনেক বন্ধুই আসতো সেই সঙ্গে অমিতদা ও কুনালদা যোগ দিত। বেশিরভাগ সময় কুট্টিকাকা ফুটবল কিনে দিত। একবার জ্যাঠা বাবুও (নির্মল কুমার) আমাদের সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলেছিলেন। খেলতে গিয়ে তিনি পড়ে যান আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম যদি জ্যাঠা বাবুর ভেঙে-টেঙ্গে যায় তাহলে সবাই আমাদের খুব বকবে। বারবাড়িতে সুরমাই ফজলি আমের একটা গাছ ছিল। আমের সময় খেলার আগে আম পেড়ে লবণ দিয়ে খাওয়া হতো। আর কাচারি ঘরের পিছনে কামরাঙ্গা গাছ ছিল।আমার অনেক বন্ধু কামরাঙ্গা পেড়ে খেতো। একবার কামরাঙ্গার লোভে টিয়া পাখির ঝাঁক এসেছিল। ঠাকুর বানানোর কথা আমি আর বলছি না কাকিমা বলেছেন। বেকারীর দিকে একটা নিম গাছ ছিল ওখানে অনেক ধনেশ পাখি আসতো।

শুভ্রও খেলায় যোগ দিত। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি যতই খেলা থাকুক কুট্টি কাকা অফিস থেকে ফেরার পর "বুচা" ডাকটা শুভ্র ঠিক শুনতে পেত আর ও গিয়ে কাকার সঙ্গে লুচি আর ক্ষীর খেয়ে আসতো। তখন জীবনটা কত সহজ ও সরল ছিল। কাচারি ঘরের পশ্চিমের শেষের ঘরে গার্গী জেঠিমা ছাত্রী পড়াতেন, উনি রায়গঞ্জ গার্লস স্কুলে সংস্কৃত ও ইংরেজির শিক্ষিকা ছিলেন। মধ্যের ঘর জ্যাঠা বাবুর ওকালতির কাজে ব্যবহৃত হতো, আর শেষের ঘরটা ছিল মনাদির পড়ার ঘর। পরে ওই ঘরটা আমাদের দুষ্কর্মের ঘর হয়েছিল অর্থাৎ তাস খেলার ঘর। অনেকে খেলতে আসতো তাদের মধ্যে অনেকেই আজ নেই। রায়গঞ্জের বর্তমান এমএল এর বাবা দিনুও (দীনদয়াল কল্যাণী) ওই খেলার শরিক ছিলেন। ভিতরের উঠান বিশেষ কিছু কাজে ব্যবহৃত হতো না সন্ধ্যার পর মাঝেমাঝে শিয়াল মহারাজের দেখা মিলত। যতদূর মনে পড়ে কার্তিক পূজার চাল কুমড়া বলি, ওই উঠানেই হত।

আমাদের বারান্দায় শীতকালের দুপুরে অসাধারণ আড্ডা জমতো, আর সেই আড্ডায় অমিতদার হাতে তৈরি চালতা মাখা একইসঙ্গে জিহ্বার তৃপ্তি আর আড্ডার আনন্দ বাড়িয়ে তুলত শতগুণ। শীতকালে দার্জিলিং স্থিত বড়বাসার বর্ধিত অংশ নিচে নামতো ফলে আড্ডায় লোকের অভাব ছিল না। দুই জ্যেঠু ,জ্যেঠি ,টুসিদি আর বুয়ার আগমনে আমাদের আনন্দধারা পূর্ণ হতো। জেঠু জিমখানা থেকে আমাদের ক্রিকেট খেলার জন্য অনেকগুলি টেনিস বল এনে দিত। জেঠুরা গ্লেনারীস থেকে কেক চকলেটও আনতো। কাকা, কাকিমা ,মুন্না ,তোতন ওরাও বৎসরান্তে আসত আর খুবই মজা হত। সন্ধ্যাবেলা আমাদের ঘরে ঠাকুমা তাস এর আসর বসাত, অমলা জ্যেঠি, মায়া কাকিমা,গুহ বাসার জ্যেঠি যোগ দিত।আমার মা খেলতে জানতো না কারণ মার বাবা ছোটবেলায় মাকে না করে দিয়েছিল। শীতকালে দার্জিলিংয়ের জেঠিরাও তাসের আড্ডার অংশীদার ছিল।

বাড়ির পূর্ব দিকের শেষে বিরাট আমবাগান ছিল। এই আম বাগানে আমের সময় মাচা বাঁধা হত আর বাগান পাহারা দিত দৈত্যাকৃতি "মতিয়া"। মতিয়া এমনিতে রাজকাচারিতে পাংখা টানতো। ওই মাচায় বসে আমিও কত দূপুর কাটিয়েছি। ওই আম বাগানের স্থায়ী বাসিন্দা ছিল একপাল শেয়াল। সন্ধ্যার পর বাড়ির থেকে আমরা "হুক্কা হুয়া” আওয়াজ করলে প্রত্যুত্তর মিলত। আজ ওখানে জনপদ গড়ে উঠেছে শুধু শেয়াল গুলি কোথায় হারিয়ে গেল। কুনাল দা খুব ভালো ফুটবলার ছিল আর অমিতদা ছিল মিডিল ডিস্ট্যান্স রানার। ৮০০ মিটার ও ১৫০০ মিটারে জেলাতে অমিতদা অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। কুনালদার পায়ে ছিল প্রচন্ড শট আর তে কাঠিটা খুব ভালো চিনত, কিন্তু কুনাল দা তার প্রতিভাকে প্রস্ফুটিত করার আগেই নিজেকে খেলার জগত থেকে সরিয়ে নেয় আর অমিতদা জীবনের গোলকধাঁধায় চিরতরে হারিয়ে গেল। শুভ্র, পিংকু (চপলা ঠাকুমার নাতি) আর কল্যাণ (আমাদের উল্টোদিকে কালুদার ছেলে) আমার খুব প্রিয় ছিল আর ওরাও আমাকে খুব মানতো। আজ শুভ্র আর পিংকু এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। রায়গঞ্জেও যাওয়া হয় না কল্যাণের সঙ্গেও দেখা হয় না।

১৯৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত রায়গঞ্জ "বড়বাসা"র আকাশে কালো ঝড় উঠেছিল। ওই কমাসে "বড়বাসা" থেকে হারিয়ে গিয়েছিল যামিনী কান্ত, বুড়ি পিসির স্বামী (জগদীশ গুহ) আমার বাবা (অসিত ওরফে বুলা) ও সোনা জেঠু (অশোক)। সোনা জেঠু আমাকে "রিন্টু লা" বলে ডাকতেন, আজও মনে পড়ে জেঠু আমার হাত ধরে পীরের মেলায় নিয়ে মঠ ( চিনির খেলনা) কিনে দিয়েছিল। তিনি যেদিন মারা গেলেন সেদিন রাত্রেও আমি জেঠুদের ওখানে খেয়েছিলাম। ভালো-মন্দ রান্না হলে আমার খাওয়া ছিল পাকা। পীরের মেলা প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল ওই মেলার একমাস আগে একদল লোক সন্ধ্যা বেলায় আমাদের বারান্দায় এসে গান করে যেত। শেষ দিনে পীর সাহেব আসতেন । ঠাকুরমা চাল ও টাকা পীর সাহেব কে দিতেন, আর উনার চামরের হাওয়া আমরা নিতাম। আবার মরসুমের প্রথম আম‌ পাড়া হলে আমাদের পুরোহিত ভুবন ঠাকুর মহাশয়ের বাড়িতে আম, নারকেল দিয়ে আসতাম। সর্ব ধর্ম সহনশীলতার অপূর্ব উদাহরণ। এই প্রথা আমাদের মনে কোন তিক্ততার ভাব জাগতে দেয়নি। এই প্রথাগুলি আজ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে পীরের মেলাও হয়তো বন্ধ হয়ে গেছে।

বড়বাসায় ১৯৬৮ সালের জুলাই মাসে ছোট কাকার (খোকা) বিবাহ উপলক্ষে আত্মীয় পরিজনদের আগমনে পারিবারিক মিলনোৎসব ঘটেছিল। আলাদা করে কারো নাম করছি না হয়তো বা কিছু নাম বাদ পড়ে যাবে ও অযথা বিতর্ক হবে। তবে প্রতিবেলায় গড়ে ৫০-৬০ জন অন্য মতে নব্বই একশ লোক খেতে বসতো। আমি তখন ক্লাস সেভেনে, কৃষ্ণনগরে বরযাত্রী গিয়েছিলাম। বড়দের অনুপস্থিতিতে ধ্রুব দা বাড়ির সব ব্যবস্থার দায়িত্বে ছিল। বাড়িতে ভিয়েন বসেছিল ঠাকুমা আমার দিদিমাকে মিষ্টির স্টোরের দায়িত্ব দিয়েছিল। খুব সম্ভবত বন্দরের শিরীষ দা মূল কারিগর ছিলেন ।আমিষ ও নিরামিষ দু'রকম ব্যবস্থাই ছিল মূল পাচক ছিল রতন ঠাকুর। প্রধানত নিমন্ত্রিত মারোয়ারী সম্প্রদায়ের জন্য নিরামিষের বন্দোবস্ত হয়েছিল এবং আলাদা বসার জায়গা হয়েছিল। এখনো মনে আছে কালিয়াগঞ্জের মোহন লোহিয়া কাকাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল "খোকাদা আমাকে এদের সঙ্গে বসিয়ে ঠকিয়ে দিলেন"। উনি আমিষ খেতেন। এইখানেই নুন লেবু ও জল দিয়ে পরিবেশনে আমার হাতেখড়ি হয়েছিল। এরপরে এরকম মিলন মেলা আর বড় বাসায় ঘটেনি।

ফুল জেঠুর (নিখিল রঞ্জন)সঙ্গে পাখি শিকারে যাওয়ার স্মৃতি আজও অম্লান। শীতের সকালে জলখাবার খেয়ে লিচু তলার থেকে রিকশা করে কলেজের দিকে রওনা দিতাম। রিকশাওয়ালার নাম ছিল বাবুয়া। কলেজের পরে ছিল খালি মাঠ , আজ হয়তো সেখানে স্টেডিয়াম ও জনপদ গড়ে উঠেছে। ফুল জেঠুর সঙ্গে থাকতো বন্দুক আর তাতে ভরা হত ছররাগুলি অর্থাৎ‌ গুলি চালালে গুলিটি অনেকগুলি টুকরো হয়ে লক্ষ্যভেদ করত। শীতকালে ওই অঞ্চলে মূলত বালি হাঁস আর হরিতালের ঝাঁক দেখা যেত ওই ঝাঁক লক্ষ্য করে ছররাগুলি ছুঁড়লে শিকার সফল হওয়ার সুযোগ বেড়ে যেত। গুলি ছোড়ার পর আমি আর বাবুয়া পাখির খোঁজে দৌড়ে যেতাম এবং পাখি পেলে কুড়িয়ে আনতাম। শিকার শেষে দুপুর আড়াইটা তিনটা নাগাদ বাড়ি ফিরে আসতাম। রাতে ফুল জেঠির ঘরে ওই পাখির মাংস আর ভাত খাওয়া হত।

অনেক বাজে বকে ফেললাম বয়সের দোষ মনে করে ছোটরা সহ্য করে নিও। দুই পোষ্যকে নিয়ে আমার এই নিবন্ধ শেষ করছি। ঠাকুমার ছিল এক হুলো বিড়াল আর কাকার ছিল এক কুকুর(ব্ল্যাকি)। ব্ল্যাকি আমার খুব অনুগত ছিল। কলকাতার কলেজ থেকে ফিরলে সে আর কিছুতেই আমাকে ছাড়তে চাইতো না। ধীরে ধীরে সবই ইতিহাস হয়ে গেল। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আশা করা যায় কিন্তু এই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি আমার জীবনে অন্তত অসম্ভব। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৩ এ "বড়বাসা"র একটা চিত্র তুলে ধরবার জন্য এই প্রচেষ্টা "আমার কথা" এখানেই শেষ করছি।