হিন্দু পুরান মতে গঙ্গার উৎপত্তিস্থল মহাদেবের জটা, কিন্তু কোন প্রাচীন পরিবারের উৎপত্তিস্থল খুঁজে বার করা শুধু দূরুহ নয় কিছুটা অসম্ভবও বটে। শতাব্দী প্রাচীন বটগাছের ঝুড়ি নেমে যেমন মূল কাণ্ডকে চোখের আড়াল করে দেয় তেমনি পরিবারের বিভিন্ন লোক মূলতঃ জীবিকার কারণে এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না,বিভিন্ন জায়গায় বাসস্থান তৈরি করে এবং সেই স্থান থেকে নিজের শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে পরিবারের শিকড় শক্ত করে। আমাদের বংশের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি ছোটবেলা থেকে আমরা শুনে এসেছি আমাদের আদি বাড়ি বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায়। কিন্তু সযত্নে রক্ষিত বংশাবলিতে উল্লেখ আছে আদিস্থান পারুলদিয়া- বিক্রমপুর- ঢাকা- বাংলাদেশ।
বংশাবলী অনুসারে ছকড়ি ঘোষের উত্তরসূরী হরিনারায়ণ ঘোষ রায় চৌধুরী মহব্বতপুরের জমিদার ছিলেন। এখন প্রশ্ন মহব্বতপুরটি কোথায়? এইখানেই দ্বন্দ্ব ও দ্বিধা:
১) গুগল স্যাটেলাইট ম্যাপ অনুযায়ী মহব্বতপুর ঢাকা ডিভিশনে
২) তাছাড়া রংপুর ডিভিশনে দিনাজপুরে বোচাগঞ্জের ইশানিয়াতে মহব্বতপুরের নাম আছে।
৩) আবার রাজশাহী ডিভিশনে বাগমারা গনিপুরেও মহব্বতপুরের সন্ধান পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে হরিনারায়ণ ঘোষ রায় চৌধুরীর একমাত্র পুত্র শিবনাথ ঘোষের প্রোপৌত্র বিশ্বনাথ ঘোষ বিবাহ সূত্রে ফরিদপুরে বসবাস শুরু করেন। অর্থাৎ ঢাকার বুড়ো বটগাছটির একটি ঝুড়ি ফরিদপুরে স্থিতি হল। সেই সূত্রেই আমরা আমাদের পূর্বপুরুষের শিকড় ফরিদপুর বলে জেনে এসেছি।
বিশ্বনাথ ঘোষের পুত্র গোবিন্দ ঘোষ ভাগ্যান্বেষণে স্থান পরিবর্তন করে দিনাজপুর হয়ে রায়গঞ্জে বসবাস শুরু করেন এবং ওকালতির দ্বারা প্রচুর সম্পদের মালিক হন। ঘোষ বংশ রায়গঞ্জে মূলত কুলদাকান্ত ঘোষ মহাশয়ের কৃতিত্বে শহরের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো তাদের আদি পুরুষদের বাসস্থান হিসাবে রায়গঞ্জ কে চিহ্নিত করবে এবং সেটাই যথার্থ। আবার বর্তমান প্রজন্ম জীবিকার সন্ধানে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে, কে বলতে পারে আমাদের কোন উত্তরসুরি ভারতের বা বিশ্বের কোন এক শহরে নিজ কীর্তিবলে অক্ষয় হয়ে থাকবে এবং তার বংশ ইতিহাসের কোন পাতায় হয়তো "রায়গঞ্জ লিচুতলা বড়বাসা" স্থান পাবে। শেষে একথাও স্বীকার করতে হচ্ছে আমরা আমাদের রায়গঞ্জ বাড়ি রক্ষা করতে পারিনি। নিয়তির হাতে সঁপে দিয়েছি।আজ নাইবা থাকলো বাড়ি বা সম্পত্তি কিন্তু বংশের মানুষগুলো তো বিলুপ্ত হয়ে যায়নি, তারাই বর্তমান, তারাই বংশের সম্পদ।
প্রত্যেক বর্তমানেরই একটা অতীত ছিল এবং একটা ভবিষ্যৎও থাকবে। এই প্রবাহকে লিপিবদ্ধ রাখার জন্য কুট্টি কাকা (খোকা) ও অন্যান্যদের প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের এই বংশপঞ্জি প্রকল্প। খাতায়-কলমে রুদ্ধ না রেখে বর্তমান প্রজন্মের এক সদস্য কৃষ্ণাভর যুগোপযোগী ডিজিটাইলেজশন চিন্তাধারাকে অনুসরণ করা হয়েছে। পরিবারের অনেকেই তথ্যের যোগান দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
ভবিষ্যতে কেউ যদি আরও তথ্য ও ছবি দিয়ে দলিলটিকে সমৃদ্ধ করতে চান তিনি সুস্বাগতম।